
[অনলাইন প্রতিবেদক]
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চোরকে চিনে ফেলায় সেতারা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ছিল ক্লু-লেস, অর্থাৎ কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই সংঘটিত একটি জটিল হত্যা মামলা। তবে নোয়াখালী জেলা পুলিশের দ্রুত ও চৌকস তদন্তে মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক-এর দিকনির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) জনাব আ ন ম ইমরানের তত্ত্বাবধানে এবং সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মনির হোসেন।
তদন্তকারী টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২১ জুন ২০২৫, শনিবার ভোররাতে বেগমগঞ্জ থানার দুর্গাপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত প্রথম আসামি মোরশেদ আলম মুন্সিকে (৩২) গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, শাড়ি, জামাকাপড় ও একটি সাউন্ড বক্স উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৫টা ২০ মিনিটে সোনাইমুড়ী থানাধীন বজরা বাজার এলাকা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: মাহফুজুন নবী সুজনকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা, স্ক্রু ড্রাইভার, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই দ্রুততম সময়ে ক্লু-লেস একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে নোয়াখালী জেলা পুলিশ আবারও প্রমাণ করল, তারা জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।







