
[মতাতম । আহানা চৌধুরী, বিনোদন ও সংস্কৃতি সাংবাদিক]
গণতন্ত্র আমার কাছে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নয়, এটি আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অধিকার। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি প্রায় ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা করে ঢাকা থেকে সিলেট এসে আমার জীবনের প্রথম ভোট প্রদান করেছি।
আমার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ঢাকা-৮ আসনের ভোটার। কিন্তু আমি সিলেটের নিবন্ধিত ভোটার। তাই জানতাম, যদি আমি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই, তবে আমাকে এই দীর্ঘ যাত্রা করতেই হবে। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন-একটি ভোটের জন্য ১০ ঘণ্টা ভ্রমণ কি সত্যিই প্রয়োজন ছিল? আমার কাছে এর উত্তর খুব সহজ: হ্যাঁ, ছিল।

আমি বিশ্বাস করি, ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি একটি দায়িত্ব। আমরা প্রায়ই পরিবর্তনের কথা বলি, সমালোচনা করি, প্রত্যাশা প্রকাশ করি। কিন্তু সেই পরিবর্তনের অংশ হতে হলে আমাদের নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমার প্রথম ভোট তাই আমার কাছে বিশেষ- আমি চেয়েছিলাম এটি যেন অর্থবহ হয় এবং আমার গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
দীর্ঘ পথ, ক্লান্তি কিংবা সময়- কোনোটিই আমাকে থামাতে পারেনি। কারণ আমি মনে করি, গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নাগরিকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আমি শুধু একটি ব্যালট পেপারে সিল মারিনি; আমি আমার মতামত, আমার আশা এবং আমার ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রকাশ করেছি। এটি ছিল আমার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতা।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও একটি বিষয় ভাবতে শিখিয়েছে- ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রক্রিয়া যেন সবার জন্য সহজ ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে ওঠে। তবেই আরও বেশি মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত হবে।
আমার ঢাকা থেকে সিলেটে ১০ ঘণ্টার যাত্রা হয়তো কারও কাছে দীর্ঘ পথচলা। কিন্তু আমার কাছে এটি ছিল গণতন্ত্রের পথে দৃঢ় পদক্ষেপ। কারণ আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ– আর সেই ভোটটি আমার নিজের।







