
[অনলাইন প্রতিবেদক]
ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি জটিল ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু- নদী শ্রেণীভুক্ত ভূমি পরবর্তীকালে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হওয়ার পর তার নামজারী ও ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে ২৩ জুন ২০২৫ তারিখ সোমবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ।
সভায় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল “নদী শ্রেণীভুক্ত পরবর্তী ব্যক্তি নামে রেকর্ডেড ভূমির নামজারী ও ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ বিষয়ে করণীয়” নির্ধারণ। এ ধরনের ভূমি মালিকানার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ এবং নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি হয়ে আসছে। একই সাথে, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন, মালিকানা প্রমাণ এবং কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে আজকের এই সভাটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি নীতিনির্ধারণী অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী; অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. মাহমুদ হাসান; অতিরিক্ত সচিব (জরিপ ও সায়রাত অনুবিভাগ) সায়মা ইউনুস, এনডিসি; অতিরিক্ত সচিব (আইন অনুবিভাগ) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি; অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান; ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য; অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা); এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়াও সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ। এভাবে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
সভায় আলোচনার মূলপাঠে উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রেই নদী শ্রেণীভুক্ত ভূমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়ে গেছে, কিন্তু এর আইনি অবস্থান অনির্ধারিত রয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, এসব ভূমির উপর নামজারী, খাজনা আদায় বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। বক্তারা বলেন, ভূমি ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে এই বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক নির্দেশিকা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সভায় সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, “প্রয়োজনীয় আইন, বিধিমালা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে খুব শিগগিরই একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হবে, যা মাঠ প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে একদিকে যেমন ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা হ্রাস পাবে, অন্যদিকে জনগণের হয়রানি কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হবে। বক্তারা আরও বলেন, ভূমি শ্রেণীকরণ ও ব্যবহার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী নির্দেশিকা প্রণয়নের জন্য কাজ করবে। এই সভা ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন ও ভূমি প্রশাসনের আধুনিকায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।