
[অনলাইন প্রতিবেদক]
১৭ জুন ২০২৫ তারিখ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাই-কমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করায় অস্ট্রেলিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের জন্য সুযোগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হলো।” এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাই-কমিশনার জানান, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এখন থেকে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে, যা আবেদনকারীদের জন্য আরও সহজতর হবে।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। হাই-কমিশনার রাইল জানান, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ৬৫,০০০-এর বেশি এবং প্রায় ১৪,০০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি। সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় আমরা একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। আগামী মাসে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ চালু করা হবে, যা এ রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হবে।”
জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “প্রথমবারের মতো নতুন ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত হবে।”
নির্বাচনী সহায়তা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির মাধ্যমে ২০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রদান করবে বলে জানান হাই-কমিশনার রাইল।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরে গড়ে ১৬.২ শতাংশ হারে বেড়েছে।” তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের অবদানকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন। জবাবে হাই-কমিশনার রাইল জানান, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ৯.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে, যার ফলে ২০১৭ সাল থেকে এ খাতে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৩.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
মিয়ানমারে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সাক্ষাতের শেষে হাই-কমিশনার সুসান রাইল বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে। এখানে এসে কাজ শুরু করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।”
সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় শাখার মহাপরিচালক মোহাম্মদ নরে-আলম।







