
[অনলাইন প্রতিবেদক]
১৯ জুন ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় ‘র্যাব’ পরিচয়ে নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে এক কোটি আট লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা বিভাগের যৌথ টিম। গত ১৮ জুন ২০২৫ তারিখ বুধবার রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ২২ লক্ষাধিক টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত ১২ লক্ষ টাকা, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন আলামত।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১। মোঃ হাসান (৩৫)
২। গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিন (৫০) – চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য
৩। শেখ মোঃ জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল (৪৩) – অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট
৪। মোঃ ইমদাদুল শরীফ (২৮)
৫। মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপন (২৭)

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৪ জুন ২০২৫ সকাল ৮:৫৫ টায় উত্তরা ১২ ও ১৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের চারজন কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক কোটি আট লক্ষ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছদ্মবেশী র্যাব সদস্যরা। ছিনতাইকারীরা ভিকটিমদের মধ্যে তিনজনকে অপহরণ করে মারধর করে, পরে তুরাগ থানাধীন এলাকা থেকে তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই উত্তরা বিভাগ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রথমে খিলগাঁও এলাকা থেকে মাইক্রোবাসচালক হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে সবুজবাগ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত হাইয়েস গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ধারাবাহিক অভিযানে উত্তরা থেকে চক্রের মূলহোতা গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। পরে আদাবর থেকে গ্রেফতার হয় ইমদাদুল শরীফ, যার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৮ লক্ষ ৪ হাজার ৭৮০ টাকা।
শাহিন ও শরীফের দেওয়া তথ্যে সবুজবাগ এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট শেখ মোঃ জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন জালাল’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। ডাকাতির টাকায় তিনি ১২ লক্ষ টাকা নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন, যা জব্দের প্রক্রিয়া চলছে।

পরে চক্রের আরেক সদস্য শিপনকে এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত হতে উদ্ধার হয় র্যাব-পুলিশের নকল আইডি কার্ড, লাঠি, সিগনাল লাইট, সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু আলামত।
ডিবি ও থানা সূত্রে জানা গেছে, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে র্যাব ও পুলিশের পরিচয়ে দেশজুড়ে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার ও বাকি লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।






